Monday, July 10, 2017

প্রকৃত কাছে গেলে
তন্ময় বীর

কাছে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়
প্রতিশ্রুতি গলে পড়ে মহাবাহু জলে

জলবন্দি দ্বীপলেখা সাশ্রু শ্লোকের
কোনও মানে বই, টীকাভাষ্য নেই
দেওয়ালে দেওয়ালে অতীত অভিজ্ঞান
বিশ্ববিদ্যালয় পাঠে নিমগ্ন পাহাড়
ময়ূরের অপেক্ষাগান বর্ষার রিংটোন
কোনদিকে যাব ডাঙরিয়া ?
সদ্য হাঁটতে শেখা বামন
বড়াইলের সুরঙ্গ কাটে
রবীন্দ্রসংগীত গায় মেখলামেয়ে
বহমান অশ্রু চিরে ইতিহাস
জেগে থাকে আলোকিত
দীর্ঘতম সেতুটির মতো

আমাদের ঈশ্বর ও আল্লা এক
এবং একটিই সন্দেহচিরে
দ্বিধাভক্ত সুরমা কুশিয়ারা

প্রকৃত কাছে গেলে সারস ওড়ে না
করতলে স্বর্ণালি স্মৃতির তর্পণ
বালিয়াড়ি ডুবে যায় স্রোতে
সেইসব স্বর্ণালি রুপোলি মীনেরা
ভেসে উঠে অনায়াস ধরা দেয়

ডোবেনা কখনো  

Tuesday, June 27, 2017

বরং কথাবার্তা চলুক উস্কানিমূলক
তন্ময় বীর  

কে মরে গেল আর কে থাকলো বেঁচে
এসব নিয়ে কতক্ষণই-বা বিদ্যাচর্চা চলে
ক্ষুরের ফলা থেকে লাফিয়ে নিস্তার কে না চায়?

চাইলেই কী যায় নাকি বাঁচা
দ্বারে দ্বারে লাঠিয়াল তাগাতাবিজদেবদেবী
আল্লাখ্রিস্টঈশামুশালাফিংবুদ্ধাজননেতা
সটান দাঁড়িয়ে আছে জনগণতান্ত্রিক দেশে।
ভর্তুকিযোজনাবিমা এড়িয়ে সুপরিকল্পিত
মরে যেতে নিরাসক্তি নির্মোহ লাগে অপরিমেয়
নিছক নুনের বিজ্ঞাপনের লাস্য ছেড়ে
বাথরুমে যেতে রাজি নই আমি
ওসব অপ্রেম বঞ্চনা অবিশ্বাস ভাববার
সময় যে কোথা থেকে যে আসে মানুষের!

খুব বেশি হলে মলাট থেকে মুছে দেব
শিরোনাম, রচয়িতা সম্পাদকের নাম
নিরুচ্চার মলাটের ভেতর যেভাবে বাঁচে
অ্যান্টি অ্যান্টি অ্যান্টি এবং অ্যান্টি
জীবনের বিরুদ্ধে জীবনের প্রস্তাব

কে মরে গেল আর কে থাকলো বেঁচে
এসব নিয়ে কতক্ষণই-বা বিদ্যাচর্চা চলে

বরং কথাবার্তা চলুক উস্কানিমূলক




(সুবিমল মিশ্রের কিছু প্রসঙ্গ পরোক্ষে এসেছে এই কবিতায়)

Tuesday, January 3, 2017

সংযম
তন্ময় বীর

আমি কী ছোঁব না তাকে --
উজ্জ্বল নীলাভের নীচে
জলময় শ্বাপদ জঙ্গলে
চরাচর ভেসে যায় যদি

সুবর্ণা মদিরার গ্লাস
দূরাগত পরিযায়ীর দোহাই
দূরত্ব লাঘবী দূরবীন
যদি কিছু দেখে ফেলি
লোভের ছোঁয়াচ লাগে
ঝলকানো বিমুক্ত ডানায়

মাছরাঙা তুমিও সাক্ষী
জললীন মসৃণ ডলফিন
বেঁধে রাখা ডুবে থাকা
একাকী  সদল সাম্পান
ঈষৎ কলঙ্ক যদি মাখি
চিবুক রক্তিম হবে

কবি, সংসারী, পানকৌড়ি
বনরক্ষক বল্লমধারী
পায়ে ফোস্কা ফেলে
কিনারে এসে ফিরে যাবো--
যাওয়া কী ন্যায়ত হবে
আমিষ অরণ্য থালায়
নিরামিষ রেখে যাওয়া
সভ্যতার দোহাই মেনে

অতল জলজ নাবিক
ডানার নাচন চেনা পক্ষিবিদ্‌
সমুদ্রসোহাগী ক্ষুরধা নদী
দুঃসাহসী হংসমিথুন
শঙ্খলাগা সাপ ও সর্পিণী
ঝুঁকে থাকা জলস্পর্শী শাখা
সজীব প্রচ্ছায়া তার
সুবিস্তৃত লালসার চর
বুনো ঘাসের ঘন আড়াল
ঝাউ বনের শীৎকার
বলো--

আমি কী ছোঁব না তাকে
ঘুমাব না পাশে তার


দুটো লতা দুটো সোঁতা
শুয়ে আছে অসীম বিস্তার



Wednesday, December 14, 2016

বাংলাদেশের হৃদয় হতে
তন্ময় বীর

বুলেট এসে লেগেছে এই হাতে বুকে মুখে চোখে
এর পর আর কে লিখতে পারে, অন্তত শান্তিতে
রক্তপায়ী ওই কোন দেশপ্রেমী ধর্মপ্রাণ ঈশ্বরের সেনাপতি
উল্লাসে ফেটে পড়ে শস্ত্রের, আঁধারের, মৃত্যুর কারবারি
এর পর কে ভাবতে পারে ছন্দের সুরের বাঁধন
ধারালো ধাতব সটান এসে বসেছে গভীরে
এখনও শুকায়নি সে বজ্র বিদ্যুৎ কান্নার দাগ
সেই চোখে এর পর কে দেখে ভোরের স্বপন
যদি কেউ এর পর মানুষকে অবিশ্বাস করে
যদি কেউ এর পর মনুষ্যত্বে বিশ্বাস হারায়
কাটা শির কাকে আর কবিতা শোনাবো
যন্ত্রণায় নীল নিথর নির্বাক চুল থেকে নখ
কি লিখব, কি বলব চুপ করে থাকা
তাও কি পোষায় সাদা কালো গোয়েরনিকা
শাহাবুদ্দিন, ওরকম সুতীব্র যদি মৃত্যুর দিকে ছোটে 
অন্ধ অস্পষ্ট সমগ্র আগামীর শরীর বল্গাহীন
কথা যদি না শোনে লালনের বিশ্বস্ত একতারা
গাড়ি যদি সত্যি সত্যি না চলে করিম
বড়ো অন্ধকার বিষম ভাবনা বুঝে ওঠা দায়
পদ্মা মেঘনা তিস্তায় ডুবন্ত নাও ঝিলমিল
কোন দূরবিনে পথ দেখে মাঝি নিশ্চিত বাঁচায়
মরীচিকা অন্ধকার মুর্শিদ, ক্রমশ বাড়ে আঁচড়ায়
জীবনের প্রেমহীন প্রান্তরে, সিং দরজায়
মৃত্যু এসে চেপেছ দুই কাঁধ, ত্রাসের হানাদারি 
সেই হাতে এর বেশি আর কী লিখতে পারি
                   


০২/০৭/২০১৬     

Thursday, June 23, 2016


বৃষ্টি পড়ে


এমন ভরা বর্ষাকালে কেউ কাছে না থাকলে পরে
সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
স্মৃতি জুড়ে তেমন করে ভেজার মতো ডাকছে না কেউ
গভীর কালো মেঘের ভারে দিনের চালে রাতের চালে
একনাগাড়ে উথাল পাথাল মনকেমন বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি পড়ে শহর ভরে পুকুর পাড়ে গ্রামঞ্চলে
বার্তা ভেজে  চিকুর ভেজে আলগা বাঁধন সুসংযমে
পঙক্তি চরণ তেপান্তরে তটাঞ্চলে আঁধার করে
অর্থহীন কিম্বা গভীর অর্থপূর্ণ এলোমেলো
ভীষণ ভারি ভীষণ জেদি বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে


Wednesday, October 14, 2015




নিতান্ত পোশাক মাত্র নয়
তারও ভেতরে এত গোপনীয়
তোমাদের দেখে শেখা

দুয়ারে আগল, তালাচাবি
সভ্যতার অবিশ্বাসী আমদানি

আমাদের বাঁশি চুরি করে
তোমাদের ঠাকুর প্রেমিকা কাঁদায়
বিরহ ছিল না আমাদের, মরদ মরদ ছিল
মেয়েদের পাশে তাকে পুরুষ
মনে হতনা কখনও

মহেঞ্জোদাড়ো লোথালের নীচে
কি ভালো যে আছে শবের শরীর
অনার্য আরক মাখা

এই যোনি জন্ম উপত্যকা
এই স্তনাগ্রে অমৃতসুধা
পিতৃশিশ্নে জন্মবীজ

তোমরাই জ্ঞানাঞ্জনচক্ষুশলাকা
তোমারি কল্যাণে আজ চোখ ফোটে
কম্পিত সভয় আমার সন্তানের

অপত্য দেখে জনক জননীর
লজ্জাহীন পৌরাণিক মহিমা

শরীর যে ভীষণ লজ্জা
শরীর যে ভীষণ নাজুক
শরীরের শাঠ্য শোষণ রাজনীতি
তোমারা শেখালে
যে পোশাক তোমাদের দান
আমাদের তুলো দিয়ে বোনা
সভ্যতার নির্লজ্জ সেনা
নিজেরাই ছিঁড়ে নিচ্ছ দিবালোকে
সন্তান সাক্ষী রেখে জনারণ্যে
হুহুঙ্কার তেজে

প্রায় বিস্মৃত কেশরীবিক্রম
মাতঙ্গিনী মাতৃমাতন
পিতার বাহুতে বুকে
শিরায় থাবায় নখে শান
তীব্র চোখ গর্জনের নাদ
মায়ের স্তনবৃন্ত নিতম্বের কঠিনে
প্রতিহত সুসভ্য কামুক আঁধার
ঘন তিমির কেটে অরণ্য অতল থেকে
বল্লম ও তীব্র মশালের হাত
সঙ্গে আছে খর্পরধারিণী তেজা



উন্মোচক সভ্যতার করুণা অপার
বিশ্বরূপ পুনঃদৃষ্ট হল


আমার সন্তানের আজ ব্রহ্মজ্ঞান হল
কী সহজে শিখে গেল
প্রকৃত সভ্যরা কাপড় পরে না
এক দিন তাকেও সব খুলে
ধুলোবালি এসব মলিন
সুকৌশলী মন্ত্রপাঠ ঠেলে
দেবালয় আস্বীকার করে
তুলে নিতে হবে অনির্বাণ
নির্মোহ নির্মম কঠিন কৃপাণ।













 







Sunday, August 30, 2015



মহারানি
মহারাজা
আমি অনুগত খোজা
এসব লিখব বলে লিখিনি কিন্তু
অচেতনে সত্য ও সোজা
এড়িয়ে গেছি সর্বদা

কোথাও বীর্যের গন্ধ
খুঁজে পবেনাকো তুমি
সামান্যতম উত্থিত পতাকা

এসব লিখব বলে লিখিনি কিন্তু
কাগজের বাঘ, নৌকা
সাগরের দারুণ জলে ভাসিয়ে
কুড়িয়েছি হাজারও বাহবা

মহারানি
মহারাজা
যাসব লিখব বলে লিখিনি কিন্তু
মরে যায়নি খামকা
ঘুমিয়ে রয়েছে অজগর চুপে

যাসব লিখেছি সব
তোমার লেখনী দিয়ে
আমার ব্রহ্মাস্ত্র রয়েছে সিন্ধুকে