Monday, July 22, 2019

আবার যেন বলে বসো না এটা কী?

ইত্যাদি বিড়াল জাতীয় শব্দ উচ্চারণ শেষে
বালিশ আঁকড়ে শুয়ে পড়লে মধ্যরাতের কিনারে
স্বর্গেরা সব ঘিরে রইল অতন্দ্র উজ্জ্বল পাহারায়
ভেজা সোঁদা গন্ধে মাতাল চকমিলানো চবুতরা

চারিদিকে খরা, সজল শ্রাবণ পেরিয়ে গেল তবু
বৃষ্টি হলো ইতিউতি, অন্যরকম একান্ত ব্যক্তিগত
কারোরই মন ভিজল না, শিকড় ভিজল না আমূল
আঙুলে লেগে রইল গতজন্মের কদমের রেণু

আড়মোড়া ভেঙে এলিয়ে পড়লে সত্যি না আসুক
স্বপ্নে আসবে, এরকম বিশ্বাসে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে
পরদিন ফিঙেডাকা সকালে চোখ জাগবে কিনা
সেসব ভৌতিক কথা ভাবার অবকাশ মেলে না খুব

Thursday, July 4, 2019

দুটো গাছ ঝুঁকে আছে
                            দিঘির উপরে
পাতা ছুঁয়ে যায় জলে
                            প্রতিবিম্ব নড়ে
                            জল মাখে মায়া
                            ঢেউ দোলা ছায়া
মাছরাঙাটি উড়ে এসে
                            ভেজা পায়ে বসে
পানকৌড়ি মেলে শুখায়
                           মখমলের ডানা

ওই শাপে বেঁকে আছি
                         তোমার কিনারে
ভেজার সুগন্ধে ভিজি
                         দিন রাত ভ'রে
স্নানের আকাঙ্ক্ষা থাকে
                         চোখের কোনায়
 ডুব দিতে মানা তবু
                        যত মন চায়

Wednesday, July 3, 2019

হঠাৎ দারুণ বৃষ্টি এল ঝেঁপে
মেঘে মেঘে আকাশ গেল ভেঙে
ভীষণ রকম ঝঞ্ঝা ঝড়ে গোটা
বাস্তু বসত এলোমেলো একশা
বিছ্না বালিশ পুকুর নালা নদী
মরার মুখে জান্ পেয়ে বাদশা

কিন্তু কোথাও কী নেই কী নেই যেন
তেমন করে আসর জমছে কই
সানাই ছাড়া বিয়ে বাড়ির মতো
মনে নেশার মাতন আশাহত

চমকে গিয়ে চেয়ে দেখি বা’রে!
বজ্রগুলো নীরব ঝুলে আছে
তোর অনিচ্ছুক বন্ধ ঘরের দ্বারে
উন্মুখ হয়ে আছি খুব খুব
অতল জলের নিচে ডুব ডুব
যখন কথারা ছিল লাখে লাখে
বাক্যের ফুল ছিল শাখে শাখে
ভাষাহীন ভাষা আজ চোখে চোখে
সংকেত বাণী ওড়ে দিকে দিকে
খুব খুব হয়ে আছি উন্মুখ
চুপ চুপ যেতে চাই সম্মুখ

উন্মুখ আছি হয়ে খুব যে
সে বার্তা নিয়ে যাবে বয়ে কে?
হাতের তখন দোষ দিও না
হাত করবে কী
সে বেচারি সেপাই মাত্র
আদেশ শোনা ঝি
ভেবে দেখ একটু কোথাও
লাই পেয়েছে কি

শুনল যখন সোনারূপো
সঙ্গে রাজ্যপাট
কাফের গোলাম আকাশ পাতাল
ভেবে ভেবেই কাঠ
মাথার কাজ মাথা ব্যথা
তার কী আর পাপ
ধানাই পানাই ছেড়ে দিলো
লোভের চিহ্নে ছাপ

হাতের বলো দোষ কী আর
হাত করবে কী
মাথার কাজ চিন্তা করা
কোথায় মাথা ছি
আমরাও বেশ চক্ষু বুজে
দুহাত ধুয়েছি

আমাদেরও দোষ দিওনা
আমরা করবো কী
আমরা হলাম মাকড় পোকা
তেনারা খান ঘি
অন্ধ আশায় লোভে বেজায়
বোতাম টিপেছি

বোতামেরও দোষ দিও না
বোতাম করবে কী
ও বেচারা আছে বলেই
গণতন্ত্রের  জামার নিচে
লজ্জা ঢেকেছি

Monday, July 1, 2019

শান্তিমালা টানিয়ে গাছে গাছে
দূরান্তের পথিক ডাকো কাছে
অন্ধকারকে বৃথা নাড়া ঘাঁটা
বরং ওর কবরে দাও কাঁটা
শাপগুলোকে চিরিয়ে কুটি কুটি
অন্ধ চোখে চুমুর কথা দুটি
ভয়কে কেন খুঁচিয়ে তোলো আর
পচলে ভালো হয় জৈব সার
আগুনে জ্বেলে বসো ওদের কাছে
পাপেও কিছু পুণ্য আলো আছে

Sunday, June 30, 2019

এখন তোমার উপচে পড়ছে থলি
এবার তবে শান্ত হয়ে বসো
এই যে এখন ভর দুপুরের বেলা
গাছের নিচে পাচ্ছ শান্ত ছায়া
চুপটি বসো, হয়ো না চঞ্চলা
মাঝের ডালে যেমন দুটি পাখি
চুপ কথাতে করিছে খুনসুটি
একটি পালক ওদের থেকে নিয়ে
লেখো বসে নীরব কথাকলি